মুহাররম ১৪৪৫ হিঃ

কাশগর ও কায়রো

একটি পর্বতচূড়ার নাম রজব তৈয়ব এরদোগান!

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

বিশ্বের প্রথম শক্তিধর ব্যক্তি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ পুরো পশ্চিমা বিশ্ব সর্বাত্মকভাবে চেয়েছিলো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রজব তৈয়ব এরদোগানের পরাজয়। ইহুদি-মার্কিন নিয়ন্ত্রিত সমগ্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম শাব্দিক অর্থেই আদাজল খেয়ে নেমেছিলো এরদোগানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী প্রচার-প্রচারণায়, যেন নির্বাচনে এরদোগানের পরাজয় নিশ্চিত করা যায়।তুরস্কের ভিতরে ইসলামবিরোধী এবং ইসলামের নামধারী সবক’টি রাজনৈতিক দল জোট বেঁধেছিলো এরদোগানের বিরুদ্ধে, যাতে...!বিরোধী জোটের পিছনে বলতে গেলে নগ্ন-ভাবেই নৈতিক ও অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে পশ্চিমা শক্তি। সমস্ত অপশক্তির একটাই ছিলো উদ্দেশ্য। যে কোন মূল্যে এরদোগানকে সরাতে হবে তুরস্কের ক্ষমতার মঞ্চ থেকে! পশ্চিমা পত্রপত্রিকার ব্যানার হেডিং ছিলো ‘এরদোগান, তোমাকে যেতেই হবে’! আশ্চর্য, এটা কি কোন স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নির্বাচনের মত আগাগোড়া অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়! সমস্ত অপশক্তির সব অপকৌশল ও চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে এরদোগান শেষপর্যন্ত নির্বাচনে জয়লাভ করে তৃতীয়বারের মত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

তুরস্কের যারা সচেতন নাগরিক, কোন কৌশল, কোন চক্রান্ত তাদের বিভ্রান্ত করতে পারেনি। তাদের কপালে বরং সঙ্গত কারণেই ভাঁজ পড়েছে, পুরো অমুসলিম বিশ্ব, পুরো পশ্চিমা শক্তি এরদোগানের বিরুদ্ধে এভাবে উঠপড়ে লেগেছে কেন! তাতে বরং এরদোগানের পক্ষে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়েছে!আমাদেরও প্রশ্ন! এরদোগানের অপরাধ কী! কেন পশ্চিমা বিশ্ব একজোট হয়ে চেয়েছে এবং চাচ্ছে এরদোগানের অপসারণ? এরদোগান কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তি! প্রশ্ন হলো, বিনসালমানের চেয়েও বেশী! তুরস্কে গণতন্ত্রের অভাব? এটা তো অনেক বাসি যুক্তি, যাকে বলে ভাঙ্গারেকর্ড! ইরাকে ও আফগানিস্তানে আগ্রাসনের পর একথা তো কেউ আর কানে তোলে না, পদলেহী কিছু সামাজিক মিডিয়া ছাড়া।তুরস্কের ক্রমাবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি! ডলারের বিপরীতে লিরার দরপতন!কিন্তু তুরস্কের সবচে’ বোকা মানুষটিও জানে, এর পিছনে রয়েছে কী গভীর যড়যন্ত্র এবং তুর্কিজাতি ও মুসলিম উম্মাহ্র দরদী নেতা এরদোগানকে শায়েস্তা করার কী কুটিল চক্রান্ত, যার বিরুদ্ধে সাধ্যমত লড়াই করে যাচ্ছেন এই নির্ভীক মানুষটি! অবাক কাণ্ড! নির্বচান হলো তুরস্কে! ফলাফলে তুর্কী জাতি হলো আনন্দে উচ্ছ্বসিত! ‘কর্তৃত্ববাদী’ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দলমত নির্বিশেষে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে বললেন, এ বিজয় আমার একার নয়! আমার দলের একার নয়, যারা আমাকে ভোট দিয়েছে শুধু তাদের নয়। এ বিজয় তুরস্কের, এ বিজয় সমগ্র তুর্কী জাতির! এ বিজয় তুরস্কের গণতন্ত্রের!

অথচ নির্বাচনের ফলাফলে পুরো পশ্চিমা বিশ্ব শোকাহত!কেন তাদের এ শোক, এই মাতম? তুরস্কের দরদে! না, শুধু এই একটি মাত্র ব্যক্তির কারণে ন্যাটোভুক্ত এই বিরাট মুসলিম দেশটিকে পদানত করা যাচ্ছে না বলে! পশ্চিমের বড় বড় থিঙ্কট্যাঙ্ক রীতিমত গবেষণা শুরু করেছে, এরদোগানের এ অসম্ভব জনপ্রিয়তার কারণ কী, যার ফলে দীর্ঘ একুশবছর ক্ষমতায় থাকার পরো তার জনপ্রিয়তায় কোন ভাটা পড়েনি! এই একটি মাত্র ব্যক্তির প্রতি জাতির এমন অবিচল ও অব্যাহত সমর্থনের রহস্য কী!সঙ্গত প্রশ্ন!

হোসনী মোবারকদের বিষয় তো আলাদা, যারা নিষ্ঠুর শাসক, শোষক ও ঘাতক হওয়ার পরো এবং দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়ার পরো শুধু বিশ্ব মোড়ল-দের আশীর্বাদে শতকরা ৯৯% ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন এবং বিশ, পঁচিশ, এমনকি ত্রিশবছরও ক্ষমতায় বহাল থাকেন। তাদের কথা ভিন্ন। মোটামুটি চক্ষুলজ্জা রক্ষা করে দিনের আলোতে এবং ভোটারের উপস্থিতিতে যেসব দেশে নির্বাচন পরিচালিত হয় সেসব দেশে সবাই জানেন একাধিক নির্বাচনে জয়লাভ করা শুধু কঠিনই নয়, বরং প্রায় অসম্ভব! মানুষ যত ভালোই হোক, দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি যতই আন্তরিক হোক, তার জনপ্রিয়তায় ধ্বস নেমেই যায়। ক্ষমতাচ্যুত তাকে হতেই হয়। কারণ তার সামনে থাকে সমস্যার পাহাড়! জনগণের চাহিদা থাকে সীমাহীন! তদুপরি থাকে বৈদেশিক ঋণের বিশাল বোঝা! পূর্ণ আন্তরিকতা সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমতা থেকে তাকে সরে দাঁড়াতেই হয়।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের ক্ষেত্রে কেন এই অবিশ্বাস্য ব্যতিক্রম, যা তুর্কীজাতি ও মুসলিম উম্মাহ্র জন্য তো সুখকর, কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের জন্য রীতিমত দুঃস্বপ্ন! কারণ মুসলিম বিশ্বে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি তার দেশকে বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাতহবিলের অভিশাপ থেকে উদ্ধার করেছেন! পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে দেখুন! রক্তাশ্রু বর্ষণ ছাড়া কোন উপায় নেই!

তুরস্কের অর্থনীতিকে ঋণের জোয়ালের নীচে রাখা যায়নি এরদোগানের কারণে, এটাই হলো পশ্চিমা বিশ্বের আক্রোশ এবং তুর্কীজাতির পরম সন্তোষের কারণ। এ কারণেই এত বড় অর্থনৈতিক চক্রান্ত করেও তুর্কীজাতিকে বিভ্রান্ত করা যায়নি।দ্বিতীয় কারণ, এরদোগানের নৈতিক, অর্থনৈতিক,  রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনের পরিচ্ছন্নতা। এমনকি শত্রুরাও তার ‘গ্রহণযোগ্য’ কোন ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা বের করতে পারেনি! ওদিকে ‘মদীনার আদর্শ কায়েমকারী’ বেচারা খানকে দেখুন, কেমন খানখান দশা! যেমন চরিত্রের তেমনি নীতি ও অর্থনীতির! অথচ গলার জোর! খুঁটির জোর!

তৃতীয় কারণ তুর্কীজাতিকে তিনি তাদের ইসলামী অতীত ফিরিয়ে দেয়ার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছেন, সমস্ত বাধা ও সীমাবদ্ধতার ভিতর দিয়ে, এমনকি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার ভিতর দিয়ে, সেনাবাহিনীর রক্তচক্ষু সামাল দিয়ে। এটা হলো পাশ্চাত্যে তার অজনপ্রিয়তা এবং তুরস্ক ও মুসলিম বিশ্বে তার জনপ্রিয়-তার বড় কারণ।কুরতুবার জামে মসজিদের মাতম আরো কত দীর্ঘ হবে, কে জানে! কিন্তু আয়াছুফিয়া! এরদোগান তুর্কীজাতি ও মুসলিম উম্মাহকে আয়াসুফিয়ার বিচ্ছেদশোক থেকে উদ্ধার করেছেন!পাশ্চাত্য টুশব্দটি করতে পারেনি, কারণ কুশলী এরদোগান যা করেছেন ধীরে সুস্থে আইন-আদালত মেনেই করেছেন!বন্ধুরা বলেন, তিনি ‘ধর্ম’কে ব্যবহার করেছেন...। ভালো কথা! আয়াছুফিয়া তো ফিরে পেয়েছি!

তাছাড়া কী করলে বোঝা যেতো, তিনি ধর্মকে ব্যবহার করছেন না, বরং ধর্মকে রক্ষা করছেন! পবিত্র-ভূমিতে বালিউডী হলিউডীদের ডেকে এনে কনসার্ট করালে! সেখানে বন্ধুরা এত নীরব কেন! বিষয়টা জানি, বলবো না!চতুর্থ কারণ। এরদোগান তার অসাধারণ কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও নিরলস প্রচেষ্টা দ্বারা এক-সময়ের ইউরোপের রুগ্নপুরুষ তুরস্ককে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন।

বেশী দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কী! রশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে দেখুন। শুধু মুসলিম বিশ্ব নয়, পুরো বিশ্বে তিনিই একমাত্র নেতা, দু’টি দেশেরই আস্থা অর্জন করে তাদের যিনি অন্তত আলোচনার টেবিলে আনতে পেরেছেন। তারপর  উভয়পক্ষকে গমরপ্তানীর বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ করাতে সক্ষম হয়েছেন, যার ফলে বিশেষ করে দরিদ্রবিশ্ব সম্ভাব্য খাদ্যসঙ্কট থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত তার এ বিরল কৃতিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আমার তো মনে হয়, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বিশ্বের আর কোন নেতার পক্ষে এটা সম্ভব হতো না! বিশ্ব এখন অবাক, কোন্ কূটনৈতিক কৌশলে এরদোগান যুদ্ধের অপর পক্ষকে না চটিয়ে ইউক্রেনের কাছে ড্রোন বিক্রি করে গিয়েছেন, যা রাশিয়ার জন্য রীতিমত ছিলো মাথাব্যাথার কারণ! একসময় সম্পূর্ণরূপে আমেরিকা ও ন্যাটোর উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল তুরস্ক অতি সঙ্গোপনে সামরিক শিল্পে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে তা পশ্চিমা শক্তিকে রীতিমত চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এরদোগানের দোষ কি, এটাই!

***

অন্যদের কথা থাক, যারা শত্রু তাদের কাছে আমরা ভালো কিছু আশা করতে যাবোই বা কেন! মুসলিম বিশ্বের দেশে দেশে, যেমন আরবদেশে, তেমনি উপমহাদেশে কিছু অবুঝ মানুষ আছেন যারা বিভিন্ন বিষয়ে রজব তৈয়ব এরদোগানের সমালোচনা করেন। তাদের আমি অবুঝই বলবো, জ্ঞান-পাপী বলবো না। এরদোগানের বিভিন্ন পদক্ষেপের তারা সমালোচনা করেন। কিছু কিছু সমালোচনা তো এমনই দুঃখজনক যে, জবাব দেয়ারও প্রয়োজন মনে হয় না। এখানেও আমি ‘হাস্যজনক’ এর পরিবর্তে ‘দুঃখজনক’ শব্দটিই ব্যবহার করবো।

‘বাড়াবাড়ি’ পর্যায়ের ইসলামপছন্দ যারা তাদের বড় একটা প্রশ্ন। এরদোগান ইসলামের কথা বলেন, কিন্তু মদ এখনো ‘হালাল’ করে রেখেছেন। ইসলামী শরী‘আ কায়েম করছেন না কেন!...বন্ধুৃরা, ভালো মানুষ এবং যথেষ্ট জ্ঞানী মানুষ, মিশরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট ড. মুরসী কিন্তু এ ভুলটাই করেছেন সালাফীদের বাড়াবাড়ি রকম চাপ প্রয়োগের কারণে। তিনি ভাগ্যবান, তিনি এবং তাঁর বহু সহযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেছেন। কিন্তু ইখওয়ান তাদের আন্দোলন ও সংগ্রামের পথে বহুবছর পিছিয়ে গিয়েছে।একই ভুল আফগানিস্তানে হয়েছে! সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে তাদের দীর্ঘ বিশবছর লেগেছে এবং...ইখওয়ান ও তালিবান উভয়কেই তিনি ধীরতার কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন, তারা শোনেননি, সেটা অবশ্যই তাদের নিজস্ব বিচার বিবেচনার বিষয় এবং আখেরাতের আজর হবে নিয়তের ভিত্তিতে। এরদোগান ঐ সরল ভুলটি করেননি। তাই তিনি কিছু না কিছু এগিয়েছেন, সমস্ত ক্ষেত্রে; পিছাতে হয়নি তাকে সামান্যও।

তারপরো দেখুন কত বড় অভ্যুত্থানের ধাক্কা শামাল দিতে হয়েছে! এবং  কী কঠিন নির্বচনী লড়াই লড়তে হয়েছে এবং হচ্ছে! এরদোগানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগ হলো, সুইডেনের কোরআন অবমাননার বিরুদ্ধে তিনি শক্ত অবস্থান নেননি! নির্বাচনী ফায়দা এবং কিছু বস্তুগত স্বার্থ আদায় করার জন্য শক্ত অবস্থানের ভান করেছেন, অথচ নির্বাচনের পর ঠিকই সুইডেনের ন্যাটো -ভুক্তি মেনে নিয়েছেন...!

অল্প পরিসরে বিশদ উত্তর দেয়া তো সম্ভব নয়। শুধু বলবো: এরদোগান জানেন, তার শক্তি ও সামর্থ্য কত! তিনি কতদূর যেতে পারবেন এবং কোথায় তাকে থামতে হবে! তার সময়জ্ঞানের শত্রুরাও প্রশংসা না করে পারে না। সুইডেনের বিষয়ে তিনি তার সাধ্য পর্যন্ত করেছেন! তারপর ঠিক জায়গায় থেমেছেন। সুইডেনকে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘটনার নিন্দা জানাতে বাধ্য করেছেন। তারপরো হাতের কৌশল তিনি ছেড়ে দেননি। বলেছেন, বিষয়টি তিনি তুরস্কের পার্লামেন্টে তোলবেন। সিদ্ধান্ত সেখানে হবে। অপরপক্ষ যথেষ্ট চাপ দিয়েছে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য, তিনি তা করতে পারতেন, করেননি, গণতন্ত্রের সবক বুঝিয়েছেন, এই হলেন এরদোগান! সাধে কি আর ট্রাম্প বলেছেন, মানুষ দেখেছেন তিনি অনেক, তবে এরদোগান দেখেছেন একজন। (ভাব অবলম্বনে)। অথচ এই ট্রাম্প সউদী যুবরাজকে মুখের উপর বলেছেন, আমরা সাহায্য না করলে তোমরা দশদিনও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তাই আমাদের ‘পয়সা’  দিতে হবে। খুব আগের কথা তো নয়, ভুলে যাবো কেন! জবাবে বিন সালমান কী বলেছিলেন! ‘আমি কিছু মনে করিনি, কারণ বন্ধু বন্ধুকে এমন বলতেই পারে!’ ভাই সাহেব, কিছু বলবার হিম্মত আছে আপনার!বিশ্বের কোন শক্তির কি সাধ্য আছে তুরস্ক ও তার রজবকে এমন কথা বলে! গযব হয়ে যাবে না! ওবামা, এরদোগান, মোদি ও সিসির ভিডিওটি যদি দেখানো যেতো তাহলে বোঝা যেতো কাকে বলে চালক, কাকে বলে বাহক, আর কাকে বলে তল্পীবাহক!

মোটকথা, অযথা গর্জন করা, তারপর লেজগুটিয়ে নেয়া, এরদোগানের স্বভাব এটা নয়। তিনি সামর্থ্যরে সীমা ও সীমানা নির্ধারণ করে বুঝে শুনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তারপর ঠিকসমযয়ে থেমে যান। ইমরান তো জাতিসঙ্ঘে খুব তর্জনগর্জন করলেন! ইয়্যাকা না‘বুদু বলে শুরু, আর ...ফাইট বলে খতম! সস্তা বাহবা পেলেনও প্রচুর, বরং সুপ্রচুর। তারপর! চুপচাপ দেখে গেলেন, ভারত কাশ্মীর গিলে ফেললো! বন্ধুদের কাছে আমার প্রশ্ন! এরদোগান তো সুইডেনকে চেপে ধরেছিলেন। কিন্তু আরববিশ্ব ও মুসলিমবিশ্বের  নেতৃবৃন্দ কি একযোগে দাঁড়িয়েছিলো এরদোগানের পাশে! ন্যাটোভুক্ত কোন দেশের উপর হামলা হলে, ন্যাটোর সমস্ত দেশের উপর হামলা বলে গণ্য হবে। ওআইসি কি তেমন কথা বলতে পেরেছে! কোন ভরসায় তাহলে এরদোগান আরো এগিয়ে যাবেন!

***

শুধু একটা কথা বলে শেষ করি! এরদোগানকে অপছন্দ করুন, তার বিরোধিতা করুন, এমনকি তাকে ঘৃণা করুন! তবে ভুল হোক, ঠিক হোক পুরো বিশ্বশক্তির মোকাবেলায় এরদোগান যেভাবে মাথা উঁচিয়ে এবং বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তা থেকে অন্তত কিছুটা শিক্ষা গ্রহণ করুন। (চলবে, ইনশাআল্লাহ্)

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা