শিশু-কিশোর ও নবীনদের পত্রিকা

মাসিক আল-কলম-পুষ্প

মুহররম ১৪৩২ হি: (১৮) | কুরআন ও হাদিস

হাদীসের আলো

 

হযরত ওরওয়া বিন যোবায়র  (রা) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যোবায়র-এর সহিত জনৈক আনছারীর জমিতে পানি দেওয়া- সংক্রান্ত ঝগড়া ছিল। মীমাংসার জন্য তাহারা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেল। তিনি বলিলেন, হে যোবায়র, তুমি (আগে) সেচ দাও, তারপর তোমার প্রতিবেশীর জন্য পানি ছাড়িয়া দাও। তখন আনছারী ক্রদ্ধ হইয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইনি আপনার ফুফাত ভাই, এজন্যই কি? তখন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হইয়া বলিলেন, হে যোবায়র, তুমি একেবারে গোড়া পর্যন্ত (পূর্ণরূপে) পান করাও তারপর নিজেকে বিরত কর।   

 

ফায়দা-  

আলিমগণ বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় যেমন তাঁহার ফায়ছালা সন্তুষ্ট চিত্তে মানিয়া লওয়া কর্তব্য ছিল। তেমনি পরবর্তী যুগেও আমীরুল মু‘মিনীনের ফায়ছালা (কোরআন-সুন্নাহর বিরোধী না হইলে) মানিয়া লওয়া মুমিনদের অবশ্য কর্তব্য। কাযী ও বিচারকের ফায়ছালা সম্পর্কেও একই কথা। এখন প্রশ্ন হইল, আমাদের যুগে শরীয়তের বিচারব্যবস্থা নাই। তো এক্ষেত্রে আমাদের কর্তব্য ও করণীয় কী? উত্তর এই যে, হুদূদ ও শাস্তিজাতীয় বিচার এবং যে সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন অপরিহার্য সেই সকল ক্ষেত্রে তো মজবূরির কারণে আধুনিক আদালতের বিচার গ্রহণ করিতে হইবে। পক্ষান্তরে বিবাহ-শাদী, তালাক ও খোরপোশ, ফারায়েয ও মীরাছ ইত্যাদি বিষয়ে অনৈসলামী বিচারব্যবস্থার শরণাপন্ন হওয়া কোন অবস্থাতেই বৈধ নহে। তদ্রূপ নিজেদের বিরোধ ও বিবাদের বিষয় অনৈসলামী আদালতের হাতে সোপর্দ করা বাদী ও বিবাদী উভয়ের জন্যই সঙ্গত নহে, বরং ঈমানের দাবী ইহাই যে, যেহেতু আধুনিক বিচারব্যবস্থাও, মামলামোকদ্দমার পরিবর্তে আদালতের বাহিরে শালিস -বিচার ও সমঝোতা-মীমাংসাকেই উৎসাহিত করিয়া থাকে সেহেতু এক্ষেত্রে কর্তব্য হইল, বিজ্ঞ ও আস্থাভাজন কোন আলিম ও মুফতিকে বিচারকরূপে গ্রহণ করা এবং তিনি কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে যে ফায়ছালা দিবেন উহা সন্তুষ্টচিত্তে মানিয়া লওয়া। যেমন কোরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, মুমিনদের মধ্যে (কোন বিষয়ে) ফায়ছালা করিবার জন্য যখন তাহাদিগকে আল্লাহ ও তাঁহার রাসুলের দিকে আহবান করা হয় তখন ইহাই তাহাদের উপযুক্ত কথা যে, আমরা শুনিলাম এবং (খুশিমনে) মানিয়া লইলাম, আর উহারাই সফলকাম। 

দ্বিতীয়ত দেশের নেতৃস্থানীয় আলিমগণের দায়িত্ব হইল ঐক্যবদ্ধভাবে ইমারাতে শরঈয়্যা বা শরীয়তী শালিসমজলিস কায়েম করা যেন যাহারা শরীয়তের বিচার ও মীমাংসা চায় তাহারা উহার শরণাপন্ন হইতে পারে, যেমন ভারতবর্ষের আলিমগণ অমুসলিম দেশে থাকিয়াও ঐরূপ ব্যবস্থা করিয়াছেন।

বিশ্বনবী সম্পর্কে

জনৈক নওমুসলিম বলেন, মুহম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে বিষয়টি আমাকে ইসলামের দিকে টেনে এনেছে তা এই যে, নিজেকে তিনি কখনো অতিমানবীয়রূপে পেশ করেননি। তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষরূপেই পেশ করেছেন। তাতে আমার মধ্যে এ আস্থা হলো যে, যেহেতু তিনি আমারই মত একজন মানুষ, শুধু পার্থক্য এই যে, তাঁর উপর আল্লাহর বিধান অবতীর্ণ হয়েছে সেহেতু জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করা সম্ভব।