শিশু-কিশোর ও নবীনদের পত্রিকা

মাসিক আল-কলম-পুষ্প

মুহররম ১৪৩২ হি: (১৮) | টেকনাফ ও তেতুলিয়া (স্বদেশ)

যথেষ্ট হয়েছে, এবার থামুন

 

তাহলে কি চরমোনাইর পীর সাহেবের কথাই সত্য হতে চলেছে? সম্প্রতি তিনি বলেছেন, সরকার ও সরকারি দল দেশ থেকে ইসলামী মূল্যবোধ নির্মূল করার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে। আমরা এখনই এতটা কঠোর মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু চারদিকে যা চলছে তাতে উদ্বিগ্ন না হয়েও পারি না। কিছুদিন আগে দেশের আদালত বোরকা ও পর্দা সম্পর্কে কথা বললেন। যৌক্তিকভাবেই প্রশ্ন তোলা যায় যে, শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান পর্দা সম্পর্কে কোন রায় দেয়ার এখতিয়ার আদলতের আছে কি না। আমরা সে প্রশ্নও তোলবো না। 

সংবিধান সংশোধনের আয়োজন চলছে। ক্ষমতাসীনরাও তো মুসলমান, তাদের সামনেও তো মৃত্যু আছে, আখেরাতে আল্লাহর সামনে হিসাবের চিন্তা আছে! ‘আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’ এ কথাটি সংবিধানের ভূমিকা থেকে বাদ দিতে একবারও কি আমাদের বুক কাঁপেনি?! আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসই কি মুমিনের সকল কাজের ভিত্তি নয়? তো এটা সংবিধানের অংশ হলে কার কী ক্ষতি? একসময় একথাটি সংবিধানে ছিলো না, তখন ছিলো এককথা, কিন্তু সংবিধান থেকে রীতিমত বাদ দেয়া? সরকার কি ভেবে দেখেছেন, এর পরিণতি দেশ ও জাতির জন্য এবং খোদ সরকারের জন্য কত ভয়াবহ হতে পারে? আমরা কত বড় গণতন্ত্রী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী! আমেরিকার চেয়ে বেশী! আমেরিকার ডলার হচ্ছে বর্তমান বিশ্বঅর্থব্যবস্থার অন্যতম বিনিময়-মাধ্যম। মার্কিন সরকার কি কল্পনাও করতে পারে ডলারের গা থেকে ‘আমরা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি’ কথাটি মুছে ফেলার কথা! 

‘গিয়ে থুয়ে’ বর্তমান সরকারি দলের একটাই ‘ইসলাম’ ছিলো বাবার রেখে যাওয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আগের বার যখন তারা ক্ষমতায় ছিলো, আব্দুল আউয়ালকে ধরে এনে ফাউন্ডেশনের চেয়ারে বসিয়েছিলো। তার অপকীর্তি কম ছিলো না, তারপরো এতটা ছিলো না, যতটা দেখাতে শুরু করেছেন, বর্তমান ডিজি, শামীম আফযাল না কী যেন তার নাম!

খবরে প্রকাশ, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু ছাত্র-ছাত্রী সরকারী উদ্যোগে বাংলাদেশ সফরে এসেছে। একপর্যায়ে তারা ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে যায়। ফাউন্ডেশনের সপ্তম তলায় তখন সারা দেশ থেকে আগত ইমামদের প্রশিক্ষণ চলছিলো। ফাউন্ডেশনের ডিজি শামীম আফযাল তরুণ-তরুণীদের সেখানে নিয়ে যান এবং অশ্লীল ব্যালে নৃত্যের আয়োজন করেন। উপস্থিত ইমামদের বক্তব্য অনুযায়ী যখন যোহরের আযান চলছিলো ঠিক তখন ডিজির নির্দেশে ব্যালে নৃত্যের ঘোষণা দেয়া হয়। আযান চলাকালে নাচ শুরু হলে উপস্থিত ইমাম ছাহেবান হতবাক হয়ে পড়েন।

সঙ্গত কারণেই এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সারা দেশের নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিক্ষুব্ধ আলিম সমাজ সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সরকার যদি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে রাজপথে এমন গণবিস্ফোরণ ঘটবে যে, সরকারের ক্ষমতার ভিত কেঁপে ওঠবে।

সরকার ও সরকারী দলকে আমরা শুধু সতর্ক করে দিয়ে বলতে চাই, যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্টরও বেশী হয়েছে, এবার থামুন। আল্লাহর ক্রোধকে আহবান জানানো থেকে বিরত থাকুন, অন্যথায়।