শিশু-কিশোর ও নবীনদের পত্রিকা

মাসিক আল-কলম-পুষ্প

রবিউল আউয়াল ১৪৪০হিঃ (৩/৭) | রোযনামচার পাতা

সম্পাদকের রোযনামচা

১ -২ - ৮০ হি.

গত সংখ্যার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে ‘অমর চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সীনা’ শিরোনামটি সম্পাদনা করে লিখেছিলাম, ‘অমর মুসলিম বিজ্ঞানী ইবনে সীনা।’ যদিও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ইবনে সীনা চিকিৎসা বিজ্ঞানীও ছিলেন, আর সে জন্য উপযুক্ত স্থান ছিলো পরবর্তী বিভাগ। এখানে তাঁকে পেশ করা হয়েছে ‘অমর মুসলিম বিজ্ঞানী পরিচয়ে’; বুঝতে পারছি না, সম্পাদনাটা এলো না কেন? বিভ্রাটটা ঘটেছিলো কোথায়? দেখি পাঠকের আদালতে কেউ ত্রুটিটা ধরে কি না?

৩ - ২ - ৪০ হি.

সম্পাদকীয়তে রয়েছে, ‘যখন থেকে চিন্তার জগতে আমার পরিপূর্ণ বিচরণ, একটা প্রশ্ন দিলের মধ্যে কাঁটার মত বিঁধেছে, বিঁধেই চলেছে ...

এখন মনে হচ্ছে পূর্বাপর শব্দ-গুলোর বিচারে এখানে দিল্ না হয়ে অন্তর হলে ভালো, ‘একটা প্রশ্ন অন্তরে কাঁটার মত...!

৪ - ২ - ৪০ হি.

গত সংখ্যার কাশগর ও কায়রো বিভাগে, ‘মরো মুসলিম মরেছে, তবু মরেনি!!’ শিরোনামটা তখন তো বেশ ভালো লেগেছে, এখন মনে হচ্ছে, তাতে কিছুটা হলেও তরলতা রয়েছে, ভাবগম্ভীরতা ও আভিজাত্য নেই, যা এধরনের বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে জরুরি। খুব লজ্জার অনুভূতি হলো! পর্যাপ্ত সময় ও পরিপূর্ণ যত্ন-পরিচর্যা না হলে যা হয়, তাই হয়েছে! এখন মনে হচ্ছে, শিরোনামটা হতে পারতো এই- ‘মরো মুসলিম, শান্তি ও স্বাধীনতার সন্ধানে!’ অথবা, ‘মরো মুসলিম, নাযুক সময়সন্ধিক্ষণে!’

৪ - ১২ - ৩৯ হি.

আরবী ও উর্দূ ‘সাতহিয়্যাত’-এর বাংলা প্রতিশব্দ নির্বাচন করেছি ‘উপরিতা’; এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে, এখনো খুঁজে পাইনি।

ফুন্দুক-এর প্রতিশব্দ, উর্দূ ও বাংলায় হোটেলই ব্যবহার করা হচ্ছে, অনেক চিন্তার পর মনে হলো, ‘অতিথিকা’ হতে পারে।

৭ - ২ - ৪০ হি.

নিজের পিছনের লেখা সুযোগ করে মাঝে মধ্যেই পড়ার চেষ্টা করি। সেদিন সাফফানাকে পড়ে শুনালাম, ‘হাদীছের আলো, জীবনের পাথেয়’-এর ভূমিকাটি। আল্লাহর শোকর, এমন লেখা আল্লাহ আমাকে দান করেছেন! বিশেষ করে এ বাক্যটি আমার কাছে এবং মেয়ের কাছে মনে হয়েছে অপূর্ব। ‘এই ভাবে বাড়ীর ছেলেটি জ্ঞানের আলো অর্জন করিত, আর বাড়ির মেয়েটি মূর্খতার অন্ধকার দূর করিত!’

ছেলে ও মেয়েতে সামাজিক ও পারিবারিক পার্থক্যের চিরায়ত রূপটা এখানে জীবন্ত রূপ লাভ করেছে। ছেলের সঙ্গে রয়েছে সামর্থ্যরে আবহ, পক্ষান্তরে মেয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে একটা অসহায় আকুতি, নিষ্ঠুরতার সামনে হার না মানার একটা দুর্বল প্রচেষ্টার ছাপ।

সাফফানা মন্তব্য করলো, ‘এখানে আমার একটি অনুভূতি হয়, ছেলেটির সৌভাগ্যের প্রতি লেখকের বিরূপতা নেই, তবে মেয়েটির অসহায়ত্বের প্রতি, তার দুর্বল প্রচেষ্টার প্রতি লেখকের হৃদয় থেকে যেন মমতার শিশির ঝিরঝির করে ঝরছে!’

সম্ভবত সে সত্যই বুঝেছে। আরেকটি বাক্য যখনই পড়ি, হৃদয় বিগলিত হয়, ‘এই বঙ্গদেশের প্রতিটি জনপদে, প্রতিটি পল্লীতে, প্রতিটি গৃহকোণে নারী-হৃদয়ের আকুতি হৃদয়ের অভ্যন্তরেই মৃত্যুবরণ করে এবং হৃদয়ের ভূমিতেই সমাধি লাভ করে ...!’

৮ - ২ - ৪০ হি.

আমাদের ছেলেরা (এবং সামান্য পরিমাণে হলেও মেয়েরা) কলম হাতে নিয়েছে এবং যেমনই হোক লিখতে শুরু করেছে, পুষ্পের জন্য শুধু এতটুকুও বড় প্রাপ্তি। পুষ্পের পাতায় পাতায় যে আখলাক, আফকার, যে জাযবা ও চেতনার আলো থাকে তা যদি আমরা ঠিক মত গ্রহণ করতে পারি তাহলে তো ইনশাআল্লাহ বড় একটা বিপ্লব আসতে পারে আমাদের জীবনে। আল্লাহ যেন তাই করেন।

৯ - ২ - ৪০ হি.

একটি ছেলে লিখেছে সম্ভবত পুষ্পকে সম্বোধন করে, ‘তোমার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার অবধি নেই...’; শব্দার্থ হিসাবে তো ঠিক আছে, কিন্তু এখানে ‘অবধি’-এর ব্যবহার ত্রুটিমুক্ত নয়। সাধারণ শব্দই এখানে অধিক সঙ্গত, ‘কৃতজ্ঞতার শেষ নেই/সীমা-পরিসীমা নেই।’ ইছবাতি উসলূবও হতে পারে, ‘তোমার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা অপরিসীম।’ এভাবেও হতে পারে,  ‘তোমার প্রতি আমি অশেষ কৃতজ্ঞ’; এগুলো সবই ‘অবধি’ থেকে উত্তম। আসল কথা হলো প্রয়োজন ছাড়া কঠিন, অপ্রচলিত, অল্প পরিচিত শব্দ ব্যবহার করা ঠিক নয়। সাবলীল গতিতে আমাদের মুখে বা কলমে যে শব্দ আসার কথা সেগুলোই ব্যবহার করা উচিত। শব্দের কষ্টার্জিত ব্যবহার ঠিক নয়।

১১ - ২ - ৪০ হি.

একটি মেয়ে ঢাকার বাড্ডা থেকে সুন্দর একটি লেখা পাঠিয়েছে, আমাকে মুগ্ধ করেছে তার এ অনুরোধ, ‘আমার এ লেখা শুধু আপনার জন্য; আপনার কলমের জন্য যদি এটি ‘কাঁচা উপাদান’ হতে পারে তাহলেই আমি খুশী। পুষ্পের পাতায় যেন প্রতক্ষভাবে না আসে, প্লিজ!

আমি তার ‘প্লিজিং’ রক্ষা করেছি। তার লেখাকে অবলম্বন করে আমার কলমে -আল্লাহর শোকর- সুন্দর একটি লেখা তৈরী হয়েছে।

১৪ - ২ - ৪০ হি.

মুখস্থ, আর মুখস্ত-এর ‘কাজিয়া’ বেশ পুরোনো। নিয়ম হিসাবে তো মুখস্থই হওয়ার কথা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঠোঁটস্থ ও কণ্ঠস্থ নিয়ে কোন বিবাদ নেই!

একজন ‘মাওলানা’ লিখেছেন, ‘বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে।’ দুঃখজনকই বটে! বিপদগ্রস্ত, অভাবগ্রস্ত। ‘গ্রস্ত’ মানে আক্রান্ত। অর্থাৎ বিপদে/অভাবে আক্রান্ত। স+ত সংযুক্ত, স+থ কিছুতেই নয়। ‘স্থ’ মানে বিদ্যমান। কণ্ঠস্থ মানে কণ্ঠে বিদ্যমান। ঢাকাস্থ মানে ঢাকায় অবস্থিত বা বিদ্যমান।

১৫ - ২ - ৪০ হি.

সাইফুদ্দীন রেযা, লিখছে মোটামুটি ভালো। রোযনামচা-গুলোতে চিন্তার এবং চেতনার ছাপ রয়েছে। কোন ঘটনাকে প্রথমে ‘বাইর’ থেকে, তারপর ভিতর থেকে দেখার একটা প্রচেষ্টা তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। ভালো। এখন যেটা দরকার, আত্মতুষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং নযরে বদ থেকে নিরাপদ থাকা। তারপর দরকার গভীর অধ্যয়ন দ্বারা নিজেকে সমৃদ্ধ করা। আল্লাহ যেন হেফাযত করেন, আল্লাহ যেন তাওফীক দান করেন।

১৬ - ২ - ৪০ হি.

এবারের সংখ্যার উদ্বোধনী বক্তব্যটি হঠাৎ করেই আল্লাহ দান করেছেন। এ চিন্তাটা অনেক দিন ধরেই মনে বেশ তোলপাড় করছিলো, এত লেখক এত লিখছে, এত পাঠক এত পড়ছে; কিন্তু লেখক ও পাঠক, কারো জীবনে তো সমৃদ্ধি আসছে না! তাহলে কী লাভ এত কিছু লিখে, এত কিছু পড়ে!!

চিন্তাটা নির্দিষ্ট একটি অভিমুখ লাভ করলো এভাবে যে, লেখা ও পড়া কেন জীবন্ত হচ্ছে না? কীভাবে জীবন্ত হতে পারে? হঠাৎ করেই চিন্তায় ঝিলমিল করে উঠলো লেখা ও রেখা শব্দদু’টি। রেখা থেকে পেলাম কালির রেখা ও হৃদয়ের রেখা! এভাবেই প্রথম অনুচ্ছেদটা তৈরী হয়ে গেলো, আল্লাহর রহমতে।

তারপর ভাবছিলাম, প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে যাওয়া যায় কীভাবে, যাতে বক্তব্যটি আরো পূর্ণতা এবং আরো সমৃদ্ধি অর্জন করে!! আসলে আমাদের এই যে বিভিন্ন চিন্তা, সেগুলোও আকাশ থেকে বর্ষিত হয়, কখনো শিশিরের মত, কখনো বৃষ্টির মত, কখনো ঝিরঝির, কখনো রিমঝিম! হঠাৎ করেই যেন আকাশ থেকে এ চিন্তাটা শিশিরের মত ঝিরঝির করে ঝরলো আমার হৃদয়ের সবুজে আচ্ছাদিত ভূমিতে যে, লেখক লেখে, আর পাঠক পড়ে। তাহলে লেখার সঙ্গে তো শুধু লেখকের সম্পর্ক নয়, পাঠকেরও রয়েছে সম্পর্ক। তো কোন লেখা কখন হয় লেখকের সম্পদ, তারপরে কখন হয় তা পাঠকের সম্পদ? যখন হৃদয় দিয়ে লিখবে এবং হৃদয় দিয়ে পড়বে। ...

তো পুষ্প চায় এমনই লেখক এবং এমনই পাঠক; এ বার্তাটুক নিবেদন করেই সমাপ্তি টানা হয়েছে।

বলতে যতক্ষণ লেগেছে, তার চেয়ে অনেক কম সময়ে লেখাটি সম্পূর্ণ হয়েছে, আল্লাহর রহমতে।

১৮ - ২ - ৪০ হি.

‘পত্রিকার মধ্যে পত্রিকা’, অর্থাৎ প্রায় প্রত্যেক পৃষ্ঠার উপরে ও নীচে ছোট হরফের ‘বড়’ লেখাগুলো, অনেক পাঠকেরই হৃদয়কে স্পর্শ  করেছে, মনে হয়। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, একমাত্র আল্লাহর।

১৯ - ২ - ৪০ হি.

লেখার মধ্যে যখন বড় বড় ভাব ও ভাবনা, উচ্চ উচ্চ লক্ষ্য ও স্বপ্নের কথা দেখি, তারপর দেখি, দশ বারো লাইনের একটি লেখায় বানানের অমার্জনীয় ভুল, তদুপরি শব্দ ছুটে যাওয়ার মর্মান্তিক অবহেলা, আমার মনের ‘পেখমমেলা’ স্বপ্নগুলো তখন একেবারেই যেন গুটিয়ে যায়। এ ভাবনায় মনটা বিষণœ হয়ে ওঠে যে, তাহলে এত পরিশ্রমের, এত বিপুল আয়োজনের ফল কী!!

২০ - ২ - ৪০ হি.

কিছু পাঠকের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তাদের কোন ধারণাই নেই একটি সংখ্যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি একটি পাতা করে একশ-এর ঘর ছাড়িয়ে কীভাবে তাদের হাতে পৌঁছে! শুরু থেকে শেষ একজন মাত্র মানুষের পরিশ্রমে (ছেলে ও মেয়ে দু’টিতে কিছু সাহায্য করছে, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা স্বীকার করতেই হবে!)

কীভাবে তা সম্ভব হচ্ছে! তাহলে পাঠকের কাছে কি কিছুমাত্র প্রত্যাশা থাকতে পারে না! অন্তত এই টুকু যে, তারা যেন সঠিক-ভাবে তা থেকে উপকৃত হয় এবং পুষ্পের প্রচার প্রসারে কিছু না কিছু অবদান যেন রাখে?!

২৩ - ২ - ৪০ হি.

কায়রো ও কাশগর বিভাগে তিনটি মাত্র লেখার অবকাশ। তো কী লিখবো এবং কী লিখবো না, ভেবে পেরেশান হয়ে যাই। ফিলিস্তীনের কথা লিখবো, না কাশ্মীরের কথা! আসামের কথা, না আরাকানের কথা! সবার অগোচরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার উইঘোর-এর কথা, না সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকের কথা, আর না ...! তারপর লিখেই বা কী হয়! কী হবে!! আসলে তো মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি ভূখ-ের প্রতিটি তরুণেরই এখন জেগে ওঠতে হবে এবং হতে হবে ঈমানের শক্তিতে, তারপর যোগ্যতার বলে বলীয়ান। কিন্তু কেথায় সেই জাগরণ! কোথায় সেই যোগ্যতার উত্থান! আর কোথায় সেই চেতনা ঈমানের, বিশ্বাসের এবং আত্মমর্যাদার?! হঠাৎ করে দেখা যায় তারুণ্যের কিছু লক্ষ্যহীন জোশ-উচ্ছ্বাস, তারপর আবার অন্তহীন নিস্তরঙ্গতা!

এক্ষেত্রে পুষ্পের মাধ্যমে সামান্য পরিসরে হলেও কিছু কি কাজ হচ্ছে?! আল্লাহ্-ই ভালো জানেন।

২৫/২/৪০ হি.

্একটা বিষয় লক্ষ্য করছি, বড়দের চেয়ে ছোটদের লেখায় বানানভুল কম এবং চিন্তার গভীরতা ও ভাবনার বহুমুখিতা অপেক্ষাকৃত বেশী। এভাবে তাদের কচি হাত ও কাঁচা চিন্তা যদি লক্ষ্যের পথে অবিচল থেকে এগিয়ে যেতে পারে, আর আমরা যদি প্রয়োজনীয় পাথেয় যুগিয়ে যেতে পারি তাহলে বিশ বছর পর হয়ত জাতি কাক্সিক্ষত ফল পেতে শুরু করবে, ইনশাআল্লাহ!

তাই ছেলেকে বারবার বলি, তুমি নিজে বড় হওয়ার চিন্তা ত্যাগ

করো; আধফোটা এই কলি-গুলোকে ফুটিয়ে তোলার সাধনায় আত্মনিয়োগ করো। সময়ের ঝড়ঝাপটা থেকে এই মাছূম ও নিষ্পাপ প্রাণগুলোকে রক্ষা করা সত্যি বড় কঠিন! আল্লাহ যদি হেফাযত করেন তবেই সহজ।

২৭/২/৪০ হি.

একজন-জালালাইনের জামাতে নাকি পড়ে- লিখেছে, ‘আমাদের আজ ‘যুগ সচেতন’ হতে হবে। বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে হবে, আমরা ...!! কত মূল্যবান কথা, বিলকুল ‘নারায়ে তাকবীর’জাতীয়! কিন্তু ভাবি, যুগ ও সচেতন একসঙ্গে লেখার মত সচেতন হওয়া গেলো না এখনো, আর ...!

২৮/২/৪০ হি.

একটি মেয়ে, এতটুকুন বয়সে, এই ছোট্ট জীবনে কতটা অসহায়ত্বের মুখোমুখি হলে লিখতে পারে, ‘পুষ্পের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পরই শুধু বুঝতে পেরেছি, আমাদেরও একটা জীবন আছে, আমাদেরও কিছু করার আছে, কিছু পড়ার আছে, কিছু লেখার আছে! পুষ্পই আমাকে শিখিয়েছে, মেয়ে হলেও আমিও ছোট ছোট কিছু স্বপ্ন দেখতে পারি! ...

কত সুন্দর গুছানো কথা! কত পরিপাটি ও লক্ষ্যমুখী চিন্তা! ক্ষোভ নেই, বিদ্রোহ নেই, তবে প্রত্যয় আছে এবং আছে সাহসের উদ্ভাস! কিন্তু পরিবারের মানুষগুলো কোথায়? তারা কি একটু সান্ত¡না-রূপে, একটু অবলম্বনরূপে পাশে দাঁড়াতে পারে না! একটু অভয় দিতে পারে না! একটু সাহস ও প্রেরণা যোগাতে পারে না!

২৯/২/৪০ হি.

আজ ইচ্ছে হচ্ছে, একটা প্রশ্ন করি, আমার পুষ্পের প্রিয় পাঠককে। এই যে, তারা জিজ্ঞাসা করে নতুন সংখ্যা কবে বের হবে! ইচ্ছে করে প্রশ্ন করি, একটু বুঝে শুনে বলো দেখি, তৃতীয় প্রকাশনার ছয়টি সংখ্যা এবং ছয়শরও বেশী পৃষ্ঠা, প্রতিটি লেখাথেকে যদি আলো গ্রহণ করে, চিন্তার সমৃদ্ধি অর্জনের মত করে পড়ি তাহলে কত দিনের প্রয়োজন? আসলে কি আর নতুন সংখ্যার জন্য ব্যতিব্যস্ত হওয়ার সুযোগ আছে?

আমার নিজের তো বড় আফসোস হয়, শুধু লিখেই যাচ্ছি, পড়ার বড় একটা সুযোগ হয়ে উঠছে না। যখন পিছনের সংখ্যাগুলো একটু হাতে নেয়ার সুযোগ হয়, অবাক হয়ে ভাবি, এত কিছু এমনভাবে কখন হলো! কীভাবে হলো! ইচ্ছে হয়, লেখা বন্ধ করে কিছু দিন শুধু পড়ি পিছনের লেখাগুলো এবং হৃদয়ের রেখাগুলো!

হায় পাঠক! কবে তুমি কালির লেখা অতিক্রম করে, হবে হৃদয়-রেখার পাঠক! কবে হবে তুমি কালো হরফের পাঠ অতিক্রম করে আলোকিত বর্ণের পাঠক!! কামনা করি, তোমার জীবনে সেই শুভসময় অচিরেই যেন আসে!

১/৩/৪০ হি.

একজন দামী মানুষ লিখেছেন, ‘আমার দাদী আমার আব্বাজানের সঙ্গে থাকতেন।’

দ্বিধায় পড়ে গেলাম, সম্পাদনা করবো, না যেভাবে আছে রেখে দেবো? অনেক চিন্তার পর যেভাবে আছে সেভাবেই রেখে দিলাম, শুধু একটু ‘’ এভাবে কোট করে। হয়ত তাঁর কথাই সত্য, তবে তিনি যদি লিখতেন, ‘আমার আব্বাজান দাদীর সঙ্গে থাকতেন’, অসত্য হতো?

২/৩/৪০ হি.

কিছু পাঠক এমন হওয়া কাম্য, যারা তরজমাকেন্দ্রিক লেখাগুলো মূলের সঙ্গে মিলিয়ে তুলনামূলক পর্যালোচনা করে গভীর চিন্তা ও মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়ন করবে। ...

এটা হলে আগামী প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীল অনুবাদের একটা শুভধারার উদ্বোধন হতে পারতো।

৫/৩/৪০ হি.

একটি আলোকিত চিন্তা কিছু দিন থেকে আমাকে একটি কোমল আকুতি দ্বারা আচ্ছন্ন করে রেখেছে! ইচ্ছে আছে, আগামী অষ্টম সংখ্যায় ‘আহলান ওয়া সাহলান’ এর নীচে উদ্বোধনী বক্তব্যে চিন্তাটি তুলে ধরবো।

আল্লাহ মানুষকে কেন সৃষ্টি করেছেন? চাঁদ-সূর্য-তারা কেন সৃষ্টি করেছেন? ফল ও ফসল এবং যাবতীয় খাদ্য কেন সৃষ্টি করেছেন? এ প্রশ্ন আমরা করি এবং নিজেরাও এ প্রশ্নের সম্মুখীন হই! সুখের বিষয়, এ সকল প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা আছে, যদিও উপলব্ধির বিষয়টি আপেক্ষিক।

পৃথিবীতে আল্লাহ এত শত ফুল কেন সৃষ্টি করেছেন? ফুলের গায়ে এত বর্ণ, এত সুবাস কেন? পৃথিবীতে ফুল যদি না থাকতো, কী ক্ষতি হতো?

কখনো কি আমরা এ প্রশ্ন করেছি? কখনো কি আমরা এ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি?

আমরা কি এ প্রশ্নের উত্তর জানি? তারপর আসবে প্রশ্ন উপলব্ধির! গ্রহণের, বরণের এবং কৃতজ্ঞতা নিবেদনের!

আমাদের পুষ্প তো বড় কোন ‘গবেষণাপত্র’ নয় এবং নয় বড় বড় পাঠকের ‘টেবিলের সজ্জা’! আমাদের পুষ্প খুব সামান্য এবং ‘ছোট ছোট’ পাঠকের জন্য! তো আমাদের পুষ্প যদি তার পাঠকের ‘আকলে ও কলবে’ এবং হৃদয় ও আত্মার গভীরে এ প্রশ্নটির উদ্ভাস ঘটাতে পারে, নিজেদের আমরা সার্থক মনে করবো। কারণ আমরা পাঠকের জন্য, পাঠক আমাদের জন্য। তারপর আমরা সাবই আমাদের মহান ¯্রষ্টার জন্য।

(চলবে ইনশাআল্লাহ্)

 

‘একটা নামী দামী পত্রিকায় দেখি, একজন লিখেছেন, ‘বোবায়’ ধরলে মানুষ হাত-পা নাড়াতে পারে না।’ আরো লিখেছেন, ‘মস্তিষ্কের অর্ধনিষ্ক্রিয়তার কারণে ঘুমন্ত মানুষটা বুঝতে পারে, কিছু একটা সমস্যা হয়েছে; কিন্তু দেহ নড়াচড়া করা যাচ্ছে না’

পুরো লেখার মধ্যে কয়েকবার একই রকম ব্যবহার দেখা গেলো। তাহলে এটা অজান্তের ভুল নয়, সজ্ঞানে ভুল ব্যবহার।

মূল শব্দটি হলো নড়া ও নাড়া। নড়া হচ্ছে অকর্মকক্রিয়া, আর নাড়া হচ্ছে সকর্মকক্রিয়া। কোনকিছু নড়ছে, আর আমি কোনকিছু নাড়ছি। পক্ষান্তরে তৃতীয় একটি ব্যবহার হলো, আমি কাউকে দিয়ে কোনকিছু নাড়াচ্ছি। অর্থাৎ আমার আদেশে, বা আমার নিয়ন্ত্রণে সে কোন কিছু নাড়ছে। যেমন সাঁকো নড়ছে, আমি সাঁকো নাড়ছি, আর পাগলকে দিয়ে সাঁকো নাড়াচ্ছি। আরবীতে এটাকে বলে দুই মাফ‘ঊল-বিশিষ্ট ফেয়েল (বা দ্বিসকর্মকক্রিয়া)।

শুধু অসচেতনতার কারণে এ ভুলটা আমাদের হয়।

কাছাকাছি আরেকটি ভুল হলো, আটকিয়ে দিয়েছি।

মূল শব্দ হলো আটকে যাওয়া এবং আটকে দেয়া। এ ভুলটা -আমি যদ্দুর বুঝতে পারি- হওয়ার কারণ হলো, ‘ঝুলে থাকা এবং ঝুলিয়ে রাখা’-এর সঙ্গে সাদৃশ্য রক্ষা করার চেষ্টা। কিন্তু এটা এবং সেটা সম্পূর্ণ আলাদা। এধরনের আরো কিছু ব্যবহার আছে। আমাদের কর্তব্য হলো শুরু থেকেই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া।  ১৮/১১/৩৯ হি.