কাশ্মীরসংখ্যা

কাশ্মীর সংখ্যা (বিশেষ)

বন্দীর যবানবন্দি

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

বন্দীর যবানবন্দি

(১৯৭১ সালে ভারতীয় বিমানছিনতাই)

কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী

মাকবূল বাট-এর আদালতি বয়ান

এটি তিনি নিজের হাতে লিখেছেন, যখন পাকিস্তানের স্বেচ্ছাচারী সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহয়া খানের ‘জল্লাদখানায়’ চরম নির্যাতন ভোগ করছেন। এটি একদিকে যেমন ঐতিহাসিক দলীল তেমনি অন্যদিকে কাশ্মীরের স্বাধনতাকামী সৈনিকদের জন্য মূল্যবান পাথেয়। এখানে এটিকে আমরা ‘বন্দীর যবানবন্দি’ নামে সংক্ষিপ্তরূপে পেশ করছি। ...

সময়ের নির্মম পরিহাস এই যে, ভারতের পর এখন আমি পাকিস্তানের আদালতে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছি। অথচ সত্য এই যে, ভারতের আদালতে প্রকাশ্যে গর্বের সঙ্গে আমি আমার ‘অপরাধ’ স্বীকার করেছি যে, আমি ভারতে প্রথম শ্রেণীর শত্রু। কিন্তু পাকিস্তান, এখানে তো আমি দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে চাই, আমি নির্দোষ, আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ তা ভিত্তিহীন। আমাদের এই যে মোকাদ্দামা, যেখানে আপনি বিচারক, আমি অভিযুক্ত, আপনি রায় ঘোষণার আগেই ইতিহাস তার রায় ঘোষণা করে দিয়েছে এবং ইতিহাসের রায় এতই স্পষ্ট যে, আমার আর কিছু বলার নেই। আমাদের এবং প্রতিপক্ষ মুনাফিকীনের মাঝখানে ইতিহাসের এ রায়ই একটি আলোকিত পার্থক্যরেখা টেনে দিয়েছে। সুতরাং এ মামলার আসামী হতে পেরে আমি গর্বিত। আমি জানি না, বিচারক হয়ে আপনি গর্ব করতে পারছেন কি না! আশা করি, আগামী প্রজন্ম বাদী, বিবাদী ও বিচারকের প্রকৃত অবয়ব চিনতে কোন ভুল করবে না। আমার প্রতিপক্ষ যাদের বাদী বলা হচ্ছে তাদের পরিচয় তো কোরআনেই বলা হয়েছে, ‘আর যখন তারা মুমিনীনের সামনে পড়ে (তখন) বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আর যখন তারা তাদের দুরাচারীদের সঙ্গে একান্ত হয় (তখন) বলে, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। আমরা তো (ওদের সঙ্গে) শুধু ‘মজাক’ করি। (প্রকৃতপক্ষে) আল্লাহ্ তাদের মজাকের জবার দিচ্ছেন, আর তাদের ঢিল দিয়ে রেখেছেন, যাতে তারা নিজ নিজ দুষ্কর্মে ঘুরে মরে। ...

মযলূম আওয়ামের সঙ্গে তারা যে যালিমানা আচরণ করছে, এর পরিণতি অচিরেই তাদের ভোগ করতে হবে, তা থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

আমি না নিজে কোন ষড়যন্ত্র করেছি, আর না কোন ষড়যন্ত্রকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়েছি। আমার নীতি ও অবস্থান, আমার কীর্তি ও কর্ম সবই সুষ্পষ্ট, দিনের আলোর মত। তবে এটা ঠিক, যুলুম-শোষণ, দাসত্ব ও মুনাফেকি, এসবের বিরুদ্ধে আমি বিদ্রোহ করেছি। পাকিস্তানের ফৌজি  শাসক ও শোষকচক্র এবং যারা রাজভৃত্য তারা যদি এটাকে ষড়যন্ত্র মনে করে, আমার কিছু বলার নেই।

তবে এটা নতুন কিছু নয়, ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে এটা ঘটেছে। অন্যায় ও যুলুম-শোষণের বিরুদ্ধে যারাই আওয়ায তুলেছে শাসক ও শোষকচক্র তাদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ ব্যবহার করেছে। তবে এটা চিরন্তন সত্য যে, যালিম ও মাযলূমের লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত জয় মাযলূমেরই হয়। আজ যেহেতু ইচ্ছাকৃতভাবে আমার কীর্তি ও কর্মকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে সেহেতু আমাকে বলতে হচ্ছে যে, যিন্দেগির প্রতিটি মোড়ে আমি ন্যায় ও ইনছাফকে সঙ্গ দিয়েছি। যুলুম ও যালিমের বিরুদ্ধে লড়াইরত আওয়ামকে শুধু  যে সাহায্য করেছি তাই নয়, বরং মাযলূম আওয়ামের নকীব ও প্রতিনিধি-রূপে সবসময় সামনের কাতারে থেকেছি। কারণ আমি বিশ্বাস করে এসেছি যে, এটাই নবীগণের সুন্নত।

আমি এই আদালতের গোচরে এটা না এনে পারি না যে, যদিও বাহ্যত আমাদের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তবে আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের আযাদির জিহাদকে ‘কুচলে’ দেয়া। এ মোকদ্দমায় আমার এবং আমার সাথীদের কিসমতে যাই থাকে, তারা যে মতলব হাছিল করতে চায়, ব্যর্থতাই হবে তাদের পরিণতি; এছাড়া আর কিছু নয়।

আযাদীর কাউমি জিহাদকে যদি আদালতের ফায়ছালা দ্বারা রোধ করা সম্ভব হতো তাহলে হয়ত দুনিয়ার কোন কাউম আযাদির স্বাদ পেতো না। ...

আমার জন্মভূমি কাশ্মীর এবং তার মযলূম আওয়ামযাদের সংখ্যা অর্ধকোটির কাছাকাছি কাশ্মীর ও কাশ্মীরী আওয়ামের বিরুদ্ধে যত যড়যন্ত্র ও চক্রান্ত এ পর্যন্ত হয়েছে তার বিশদ পর্যালোচানা তো এই মুখতাছার বয়ানে আনা সম্ভব নয়, তবে যড়যন্ত্র ও চক্রান্তের এ দিকটা অবশ্যই এখানে তুলে ধরতে হবে, যার ফলে আজকের এই মোকাদ্দামা জন্ম নিয়েছে। আসলে ষড়ন্ত্র বলি, আর চক্রান্ত বলি, তা কিন্তু আমাদের প্রকাশ্য শত্রুরা করেনি; করেছে আমাদের কিছু নাদান ও নির্বোধ নেতা যারা ছলে বলে কৌশলে কাউমের ভাগ্যবিধাতা হয়ে বসেছে। ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির মোহে এই অঞ্চলের তেরকোটি আওয়ামকে গোলামির জিঞ্জিরে বেঁধে রেখেছে। বলাবাহুল্য, যে নেতৃত্ব আপন কাউমের সঙ্গে, আওয়ামের সঙ্গে দুশমনি ও গাদ্দারি করতে পারে, তারা (কাশ্মীরের) ঐ মাযলূম আওয়ামের দোস্ত কীভাবে হতে পারে, যারা এখনো গোলামির জিঞ্জির ভাঙ্গার জিহাদে মশগূল!

একথা বলা থেকে আমাকে কেউ রুখতে পারবে না যে, বিগত পঁচিশ বছর পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন মহল প্রতিটি সুযোগে কাশ্মীরের মাস‘আলাকে নিজেদের ঘৃণ্য স্বার্থে শুধু ব্যবহার করেছে। এ দেশের সাধারণ মুসলমান কাশ্মীরকে ভালোবেসে এসেছে, এখনো ভালোবাসে, সেই আওয়ামের সরল আবেগ ও জোশজাযবার সঙ্গে শুধু ‘খেলওয়াড়’ করার জন্য ‘কাশ্মীর, কাশ্মীর’ বলে চেচামেচি করেছে। এই কুচক্রীদের কারণে শুধু যে পাকিস্তানের অস্তিত্বই আজ বিপন্ন তা নয়, বরং আমাদের কাশ্মীরের জিহাদে আযাদি, বহু শতাব্দী না হলেও বহু বছর অবশ্যই পিছিয়ে পড়েছে।

এটি একটি বেদনাদায়ক সত্য যে, প্রথম দিন থেকেই আমাদের সশস্ত্র জিহাদ এ দেশের হুকুমতের চক্ষুশূল হয়ে আছে। কারণ এটাকে তারা নিজেদের কায়েমি স্বার্থের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষপূর্ণ মনে করেছে।

আমাকে এবং আমার সঙ্গীদেরকে দেশবিরোধী সাব্যস্ত করার চিন্তা তখনই করা হয়েছে যখন ফৌজি শাসকচক্র তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত ছিলো।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২৪শে ফেব্রুয়ারী ৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসক মহল এনএলএফ-এর বিরুদ্ধে সামান্য সন্দেহের কথাও বলেনি। তাহলে হঠাৎ এমন কী ঘটলো যে, আমরা পাকিস্তান এবং তার আওয়ামের দুশমন হয়ে গেলাম?!

প্রকৃত ঘটনা এই যে, শাসকবর্গ তাদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক চক্রান্তকে  বৈধতার চেহারা দেয়ার জন্য বিমানছিনতাই ঘটনাকে কিছু ভিত্তিহীন অজুহাতের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ব্যবহারের চেষ্টা শুরু করেছে।

মূলত চব্বিশে ফেব্রুয়ারী রাতেই রাওয়ালপি-ণ্ডির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে এ মর্মে গোপন সার্কুলার জারি করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, যে কোন মূল্যে আমাদেরকে যেন জনগণ ও গণমাধ্যম থেকে দূরে রাখা হয়।

আমরা যখন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলাম, আমাদের বোঝানো হলো যে, পাকিস্তান বড় নাযুক রাজনৈতিক সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। শেখ মুজীর্বু-রহমানের সঙ্গে আইনি জটিলতা শামাল দেয়ার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজন। এ জন্য কাশ্মীরবিষয়ে পাকিস্তানের আওয়ামের আবেগ শান্ত করা দরকার। আমাদের আরো বোঝানো হলো যে, ‘শেখ মুজীব যেহেতু ভারতবান্ধব সেহেতু তিনি কিছুতেই চাইবেন না যে, কোন বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বৈরিতাকে হাওয়া দেয়া হোক।’ শুধু এই চিন্তা থেকে যে, আমাদের কোন কর্মকা- দ্বারা পাকিস্তানের আইনি সঙ্কট আরো জটিল না হয় এবং আমাদের নিয়ত ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল ধারণা যেন সৃষ্টি না হয়, আমরা পি-ণ্ডি থেকে টান্ডা ডেম চলে আসতে রাজী হয়েছি।

কিছু দিনের মধ্যে প্রস্তাবিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অধিবেশন স্থগিত করা হলো, আর জটিল পরিস্থিতি আরো জটিল হলো। কথিত আলাপ-আলোচনার জন্য ইয়াহয়া খান ঢাকা যাওয়ার একদিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হলো যে, ছিনতাই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।

আমরা যখন ব্যাখ্যা চাইলাম, বলা হলো, ‘শেখ সাহেব যেহেতু আগেই তদন্তের দাবী তুলেছেন সেহেতু আলোচনা শুরুর আগে তাকে আশ্বস্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।’ আমাদের আরো বলা হলো, ‘এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপও শামাল দিতে হচ্ছে। ‘হালকা-পাতলা’ একটা তদন্ত হবে, যার প্রকৃতি আইওয়াস বা ‘চক্ষুধোলাই’ ছাড়া আর কিছু না। ২০শে মার্চ ইয়াহয়া-মুজীব আলোচনা সিদ্ধান্তমূলক পর্যায়ে এসে গিয়েছিলো। ফৌজি হুকুমত ষড়যন্ত্রের জাল তখন গুটিয়ে আনার আয়োজন শুরু করেছে। শুধু উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা ছিলো।

২৫শে মার্চ ইয়াহয়া খান মুখোশের বাইরে চলে এলেন এবং পূর্বপাকিস্তানে ‘সামরিক কার্যক্রম’ শুরু হয়ে গেলো। এদিকে ২৭ তারিখ থেকে কমিশন গঠণের মাধ্যমে তদন্তও জোরে শোরে শুরু হলো। আমি যদ্দুর বুঝেছি, এর পিছনে একটা বড় উদ্দেশ্য ছিলো পূর্বপাকিস্তানের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে বৈধতা দান করা এবং আওয়ামের মনোযোগ সেদিক থেকে সরিয়ে রাখা।

লক্ষ্য করার বিষয় হলো, কমিশন তাদের তদন্তরিপোর্ট প্রেসিডেন্টের কাছে পেশ করার ছয়দিন আগে আমাকে এবং সঙ্গীদের নির্জনবাস থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত-প্রতিবেদন সামনে আসার পর আমাদের পুরো আন্দোলনকে এমনভাবে টুটি চিপে ধরা হলোযে, ভাবলেও শরী কেঁপে ওঠে!

কিন্তু পাকিস্তানের সাদা-কালোর মালিক মোখতাররা ভুলে গিয়েছিলো যে, তাকদীরের পাকড়াও কত কঠিন। যারা আমাকে এবং আমার আন্দোলনকে ‘বকরা’ বানাতে চেয়েছিলো তারাই আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

জিহাদ ও আযাদির দাবী করা তো সহজ, কিন্তু ঐ পথে চলার জন্য বড় দিলগুর্দার প্রয়োজন। ঐ পথের যারা মুসাফির তাদের যিন্দেগিতে ইমতিহান ও পরীক্ষা আসতেই থাকে, আর তা এত কঠিন হয় যে, পর তো পর, আপন মানুষও সঙ্গ ছেড়ে দেয়। আমি আমার জন্মভূমির জন্য আযাদির লাড়াই লড়তে গিয়ে বহু কঠিন ও ধৈর্যক্ষয়ী পরীক্ষা পার হয়েছি। এমনও সময় এসেছে যখন সঙ্গে চলার কেউ ছিলো না, এমনকি নিজের সহনশক্তিও জবাব দিতে বসেছিলো। তখন শুধু ঈমানের শক্তিই কাজে এসেছে।

এটা অবশ্যই ‘আযাদিপছন্দ’ মুজাহিদীনের শান নয় যে, ইমতিহান ও পরীক্ষাকে ভয় করবে, কিংবা নির্যাতন-নিপীড়ন ও তাশাদ্দুদের শেকায়াত করবে। এগুলো তো জিহাদের অংশ এবং মুজাহিদের জন্য মর্যাদার বিষয়!

ব্যক্তিগতভাবে আমি তাশাদ্দুদ ও নিপীড়নের তিনটি স্তর পার হয়ে এসেছি। প্রথম হলো অধিকৃত কাশ্মীরে দলখলদারদের হাতে। দ্বিতীয় হলো আযাদ কাশ্মীরে নিযুক্ত গেস্টাপো মার্কা ফৌজি অফিসারদের হাতে। তৃতীয় হলো  গোলামিযুগের স্মৃতিবাহী, কুখ্যাত লাহোর দুর্গের ‘জল্লাদ চরিত্রের’লোকদের হাতে। প্রতিটি স্তরে তাশাদ্দুদ ও নির্যাতনের কাহিনী এত দীর্ঘ এবং এত লোমহর্ষক যে, ... তবে একটা বুনিয়াদি হাকীকত এখানে তুলে ধরতে চাই। তা এই যে, তিনটি স্থানের তাশাদ্দুদের উদ্দেশ্য ছিলো ভিন্ন ভিন্ন। অধিকৃত কাশ্মীরে আমার এবং আমার মিশন-এর আকৃতি ও প্রকৃতি সম্পর্কে আসল সত্য তারা জানতে চাচ্ছিলো। আযাদ কাশ্মীরে হাকীকতের তালাশ তো ছিলো না, তবে তাদের ‘পূর্বধারণা’র অনুকূলে আমার স্বীকারোক্তি আদায় করতে চাচ্ছিলো। পক্ষান্তরে লাহোর দুর্গের জল্লাদেরা আমাকে দিয়ে মিথ্যা বলাতে চাচ্ছিলো। আফসোস, আমার প্রিয় পাকিস্তানে লাহোরের দুর্গে যে বর্বরতা, নৃশংসতা... কিছু বিষয় তো এতো ‘দরদনাক ও শরমনাক’ যে, মুখে বা কলমে উচ্চারণ করাও কঠিন। ব্যস, লাহোর দুর্গের দু’মাসের হিসাব আমি রোযে হিসাবের জন্য তুলে রেখেছি!

মেজর নাছীরুদ্দীন খটক তার প্রতিবেদনে আমার বক্তব্যে অনেক খটকা প্রকাশ করেছেন। ‘খটক সাহেবের খটকা’ হতেই পারে। এতে তার দোষ নেই। তাকে তো ‘অর্পিত দায়িত্ব ঈমানদারি’র সঙ্গে পালন করতেই হবে! এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পাকিস্তানের শাসকদের, বিশেষ করে ফৌজি শাসকদের নযরে এমন প্রতিটি মানুষ অপরাধী ও দেশদ্রোহী যিনি জাতীয় স্বার্থের দাবীতে শাসকদের মর্যি চিন্তা না করে, বিবেক ও বিশ্বাসের আদেশ পালন করবেন। ...

আমাদের বলা হয়, দেশের ভিতরে সশস্ত্র কোন শক্তিকে প্রশ্রয় দেয়ার নযির কি পৃথিবীর কোন দেশে আছে? আমি জানতে চাইবো, আযাদ কাশ্মীর এবং অধিকৃত কাশ্মীরের নযির কি দুনিয়ার কোথাও আছে? আমার বিশ্বাস, ফিলিস্তীন ও কাশ্মীর, উভয়ের রাস্তা ও মানযিল অভিন্ন। ফিলিস্তীনের মুজাহিদীনের হাত থেকে যদি অস্ত্র কেড়ে নেয়া না হতো, বরং আরবদেশগুলো যদি আগে থেকেই তাদের অস্ত্রসজ্জিত করে রাখতো এবং প্রয়োজনীয় সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে রাখতো তাহলে আজ ‘দৃশ্য’ অন্যরকম হতো। সেখানেও একই বিষয় ছিলো, ক্ষমতা হারানোর ভয়!

আজ আমাদের জিহাদকে বলা হচ্ছে ‘সন্ত্রাস’, কিন্তু আমি বলতে চাই, এ ‘সন্ত্রাসের’ বরকতেই আযাদ কাশ্মীরের বত্রিশ হাজার বর্গমাইল আপনারা পেয়েছেন। পক্ষান্তরে এই সন্ত্রাসের অভাবেই দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের মধ্যেও অধিকৃত কাশ্মীরের এক ইঞ্চি ভূমিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

হাঁ, আপনারা আমাদের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখুন এবং দেখুন, মুলক ও আওয়ামের ক্ষতি হয় এমন কিছু আমরা করছি কি না! বাকি, কাশ্মীর, বিশেষ করে অধিকৃত কাশ্মীর! তো আমাদের জন্মভূমি, এটা আমাদের বিবেচনার উপর ছেড়ে দিন। *

 

আমার জন্মভূমির বুকের উপর দিয়ে, আমার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে বিভাজনরেখা টানা হয়েছে, আমি বিশ্বাস করি, একদিন তা মুছে যাবে এবং অবিভক্ত কাশ্মীরের দিগন্তে আযাদির ‘সূরজ’ উদিত হবে! তখন আমার প্রতি ইনছাফ হবে, তবে এ আদালতে নয়, কাশ্মীরে জনতার আদালতে। মাকবূল বাট

 

শ্রীনগর জেল থেকে ফেরারের পর, আযাদ কাশ্মীরের পথে যে দীর্ঘ সফর, কাশ্মীরের মানুষ যেভাবে আমাকে সাহায্য করেছে, যেভাবে আগলে রেখেছে, প্রতিটি মানযিলে যেভাবে ‘আলবিদা’ বলেছে। সত্যি তা...!

তাদেরই ‘ছায়া’র কারণে দুশমন আমাকে দ্বিতীয়বার ‘ধরতে’ পারেনি...! -মাকবুল বাট

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা