রবিউল আওয়াল ১৪৩২হিঃ (১৯)

তোমাদের জন্য

একটি দোলনা দিয়ো হে আল্লাহ!

লিখেছেনঃ উম্মে যামেনাহ

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

তুমি কত মেহেরবান হে আল্লাহ! কী অসীম তোমার দয়া ও করুণা! সন্তানহারা মায়ের দিলে, বাবার দিলে সান্ত্বনা ও তাসাল্লি দিতে কত আয়োজন করেছো তুমি! কী বিরাট আজর ও পুরস্কার ঘোষণা করেছো তুমি!

একটুকরো অঙ্গারের মত জ্বলছিলো আমার দিলটা। তোমার নবীর যবানে যখন শুনলাম তোমার ‘কুদসি কালাম’, ঠান্ডা পানি পড়ে শোকের আগুন যেন নিভে গেলো; দিল-কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেলো। তোমার শোকর হে আল্লাহ, তোমার শোকর!

তোমার কুদসি কালাম তোমাকে শুনাই হে আল্লাহ! বান্দার সন্তান যখন মৃত্যুবরণ করে, তুমি তখন ফিরেশতাদের বলো, ‘আমার বান্দার সন্তানকে তোমরা ‘কবয’ করেছো?’ তারা বলেন, হাঁ! তুমি তখন বলো, আমার বান্দার ‘কলিজার ফল’ তোমরা কবয করেছো? তারা বলে, হাঁ! তুমি তখন বলো, আমার বান্দা কী বলেছে? তুমি তো সবই জানো হে আল্লাহ! তবু তুমি জিজ্ঞাসা করো। বান্দার ছবরের কথা শুনতে যে তোমার ভালো লাগে! তাই তুমি জিজ্ঞাসা করো, ‘আমার বান্দা কী বললো?’ ফিরেশতারা বলেন, বান্দা তোমার প্রশংসা করেছে, আর বলেছে, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।

কত সত্য কথা হে আল্লাহ! কত সুন্দর কথা হে আল্লাহ! আমরা তো তোমারই জন্য। আর আমরা তো তোমারই কাছে ফিরে যাবো। এমন সুন্দর কথা তুমি ছাড়া কে শিক্ষা দিতে পারে হে আল্লাহ!

বান্দার দিল ছিঁড়ে গেলো, বান্দীর কলিজা ভুনা হয়ে গেলো, তবু মুখে নেই কোন শিকায়েত! কান্না আছে, আছে চোখের জল, নেই কোন অভিযোগ! নীরবে কাঁদে, নীরবে ফেলে অশ্রুজল, আর মুখে বলে, আলহামদু লিল্লাহ! ইন্না লিল্লাহ! বান্দার হামদ-ছবর তোমার বড় ভালো লাগে! তাই ফিরেশতাদের তুমি বলো, ‘জান্নাতে আমার বান্দার জন্য একটি বালাখানা তৈরী করো। আর তার নাম রেখে দাও ‘বাইতুল হামদ’!’

আল্লাহগো! তোমার বান্দী বিশ্বাস করে, জান্নাতে তাকে তুমি দেবে বাইতুল হামাদ নামের বালাখানা। সেই বালাখানা তুমি তোমার ইচ্ছে মত সাজাও হে আল্লাহ! আমার শুধু একটি মিনতি।

বড় সাধ ছিলো, আমার মেয়েকে দোলনায় দোল খাওয়াবো! হে আল্লাহ, সেই বালাখানায় আমার মেয়ের জন্য সোনা-রূপার একটি দোলনা তৈরী করো। বালাখানার সামনে যে ফুলবাগিচা হবে, তাতে যে জান্নাতি নহর জারি হবে, সেই বাগিচায়, সেই নহরের কিনারায় সেই দোলনাটি সাজিয়ে দিয়ো। আমাকে জান্নাতের কাপড় দিয়ো, আর দিয়ো সুঁই-সুতা, আমি নিজেই সেলাই করে নেবো আমার মেয়ের জান্নাতি লেবাস। তখন কত সুন্দর দেখতে হবে আমার মেয়েটি! জান্নাতি দোলনায় তাকে আমি দোল খাওয়াবো। আর তোমার যদি ইচ্ছে হয়, কিছু খেলনা দিয়ো হে আল্লাহ!    

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা