মুহররম.১৪৪০হিঃ (৩/৬)

কাশগর/কায়রো

ইরানের সরকার ও জনগণের উপর ট্রাম্পের আক্রোশ! আবার অবরোধ, ইরান অবিচল

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

আফগানিস্তান গেলো, ইরাক গেলো, ইয়েমেন ও সিরিয়া যায় যায়! আছে ইরান, আর তুরস্ক। এবার কি তাহলে ইরানের পালা?!ইরানকে কাবু করার অপচেষ্টা আমেরিকার, বিশেষ করে বর্তমান ট্রাম্পসরকারের নতুন নয়। ইরানের অপরাধ এটা নয় যে, সে সুন্নীবিরোধী শিয়াপন্থী; ইরানের অপরাধ হলো তার তথাকথিত পারমাণবিক শক্তিপ্রকল্প। ওবামা সরকার ইরানের উপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেছিলো। শেষ পর্যন্ত বৃহৎ শক্তিবর্গের চাপে ইরানকে বিভিন্ন শর্ত মেনে নিয়ে পরমাণু চুক্তি করতে হয়েছিলো ২০১৫ সালে। তবে অত্যন্ত কুশলী দরকষাকষির মাধ্যমে যতটা সম্ভব সুবিধা ইরান আদায় করে নিয়েছিলো।কিন্তু ট্রাম্প শুরু থেকেই পাঁয়তারা করছিলেন চুক্তি থেকে সরে আসার, এই অজুহাতে যে,সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার করে যাওয়া ঐ চুক্তি ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প সম্পূর্ণ স্থবির করার জন্য যথেষ্ট ছিলো না এবং তাতে মার্কিন স্বার্থ রক্ষিত হয়নি।ট্রাম্প তার দেশের তুলে নেয়া অর্থনৈতিক অবরোধ ইরানের উপর একতরফাভাবে পুনরায় বহাল করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞার মূল বিষয় হলো ইরানের তেলশিল্প ও জ্বালানী খাত, যা ইরানের অর্থনীতির প্রাণ। যুক্তরাষ্টের এবার লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের তেল রপ্তানী শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনা। এজন্য বিশ্বের সকল দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত সোমবার রাতে (৬ই আগস্ট) পুনর্বহাল হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা আগামী নভেম্বরে পূর্ণরূপে কার্যকর হওয়ার কথা।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্টের নেতৃত্বে ইরানের উপর অবরোধ আরোপে শামিল ছিলো যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীন। এই দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলো এবং আরোপকৃত অর্থনৈতিক অবরোধ একসঙ্গে তুলে নিয়েছিলো। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী প্রতিটি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চুক্তি থেকে সরে আসা এবং অবরোধ পুনর্বহাল করার ‘তীব্র’ সমালোচনা করেছে। এমনকি কিছু ইইউ কর্মকর্তা এটিকে অবৈধ এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার সঙ্গে সাঙ্ঘর্ষিক বলেও আখ্যায়িত করেছেন। কারণ আন্তর্জাতিক আণবিক জ্বালানী সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, সম্পাদিত চুক্তি ইরান ঠিকমতই মেনে চলছে।এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, আমরা আশা করবো, সব দেশ এমন পদক্ষেপ নেবে যার ফলে ইরান হয় বিশ্ব-সম্প্রদায়ের প্রতি হুমকি হওয়ার অবস্থান থেকে সরে এসে বিশ্বঅর্থনীতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করবে, অথবা সারা বিশ্ব থেকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।ইরান অবশ্য আগের অবরোধের মত এবারও নিজের অবস্থানে অবিচল রয়েছে; সেই সঙ্গে অবরোধের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে পারস্য উপসাগরের নৌপথ বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি প্রদান করেছে। উল্লেখ্য এ নৌপথ দিয়েই বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানী হয়।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, তার দেশ জাতিসঙ্ঘের বাইরে কোন দেশের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তুরস্ক ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক লেন দেন বন্ধ করবে না।তুরস্ক তার নিজের সবরকম পরিস্থিতি সত্ত্বেও সবসময় ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে, যদিও ইরানকে কখনো তেমন করে তুরস্কের পাশে পাওয়া যায়নি। সেটা অবশ্য আলাদা প্রসঙ্গ।আমরা গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, মুসলিমবিশ্বের কোন দেশ এ দুঃসময়ে ইরানের পাশে দাঁড়ায়নি। বিশেষত সউদী আরব, আরব আমিরাত ও ইসরাইল ইরানবিরোধী অবরোধে ‘সমান মাত্রায়’ উল্লাস প্রকাশ করেছে।কিন্তু ইরানকে -হোক চরম সুন্নীবিদ্বেষী শিয়াবাদী- মার্কিন আগ্রাসনের মুখে একা ছেড়ে দিয়ে যারা ‘শিয়ানির্মূল’ দৃশ্য উপভোগ করতে চান, তারা কি নিশ্চিত এবং নিশ্চিন্ত যে, কখনো তাদের পালা আসবে না?!ঘটনার বাইরে এত দূর থেকে আমরা যা দেখতে পাই, ঘটনার ভিতরে থেকেও কি তারা তা দেখতে পাচ্ছেন না?! যখন দেখতে পাবেন তখন হয়ত ...!!*

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা