রবিউল আউয়াল ১৪৪০হিঃ (৩/৭)

কাশগর/কায়রো

সউদী রাজা ও তার উত্তরাধিকারীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবার আরো বাগে পেলেন!

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে এক ট্রাম্পই এমন যাকে বোঝা সহজ। কারণ কূটনীতির মারপ্যাচ ও রাখঢাকের তিনি খুব একটা তোয়াক্কা করেন না। যা বলেন সোজা সাপ্টা বলেন। জেরুসালেম বলি, কিংবা আলকুদ্স, কলমের একখোঁচায় ইহুদিদের দিয়ে দিলেন তো দিয়েই দিলেন! এরপর সউদিদের ভূমিকার মধ্যেও আর কোন রাখঢাক থাকলো না। হারামাইনের খেদমত যাদের হাতে তারা হয়ে গেলো ...!

বিনসালমান যখন হোয়াইট হাউজে প্রেডিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে ‘বা-আদব’ বসলেন, আর তিনি ‘জামাইবয়সী’ মানুষটির দিকে ফিরেও না তাকিয়ে বললেন, ‘আমাদের সর্ববৃহৎ অস্ত্রক্রেতা’ তখনই বোঝা গিয়েছে নাকের লাগামটা কত শক্ত হাতে ধরা!

তারপর তো কীভাবে কী হলো, সবকিছু বিলকুল নগ্ন হয়ে গেলো! ট্রাম্প ভরা দরবারে সউদী রাজার ‘ওকাল’ ধরে টান দিলেন; তাতে আমাদেরও দিলের রগে টান পড়লো। ন্যূনতম কূটনৈতিক সৌজন্যটুকু পর্যন্ত ছুঁড়ে ফেলে ঘোষণা করলেন, সউদী রাজাকে আমি বলে দিয়েছি, আমরাই আপনাকে সুরক্ষা দিচ্ছি। আমাদের ছত্রচ্ছায়া ছাড়া আপনার দু’সপ্তাহও ক্ষমতায় থাকা সম্ভব হবে না।’

তিনি আরো বলেলন, সউদী আরব ধনী দেশ; ওদের কর্তব্য এই সুরক্ষার বিনিময়ে আমাদের আরো কিছু দেয়া।

রীতিমত বোমা বিস্ফোরণ! বিন সালমান জবাব দিলেন। তাতে সব যেন আরো পরিষ্কার হয়ে গেলো! কানাডা কী না কী বলেছে, তাতেই

‘তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠা’ বিন সালমান পরম ধৈর্যের সঙ্গে বললেন,  ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে আমি ভালোবাসি।’ দেখুন তো খাদেম খাদেম ভাব আছে কি না কথাটার মধ্যে!

তিনি আরো বললেন, ‘তার কথায় আমি কিছু মনে করি না, কারণ বন্ধু সবরকম কথাই বলতে পারে। একটি পরিবারের মধ্যেও তো এমন হয়!’

দেখুন তো, আনুগত্য ও কৃতার্থতা উপচে পড়ছে কি না!

তিনি আরো বললেন, ‘আমরা তো বিপুল অস্ত্র ক্রয় করি ডলার দিয়ে। সুতরাং ...!

এগুলো হলো কয়েক সপ্তাহের পুরানা কাহানী। এখন শুরু হয়েছে, ‘শুনেন জাহাঁপনা, শুনেন বলি, নতুন করে পুরান ঘটনা!’ ফলে সউদী রাজা ও তার পুত্র ‘কূটনৈতিক অপরিপক্বতা’র কারণে আমেরিকার পাতা ফাঁদে ভালোভাবেই আটকা পড়েছেন! কূটনীতির ইতিহাসে এত বড় ... সম্ভবত দ্বিতীয়টা আর নেই।

গত ২সরা অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সউদী কন্সুলেটে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গিয়েছে। সউদী আরবের প্রতিবাদী সাংবাদিক জামাল খাশোগী ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তুরস্কের সউদী কন্সুলেটে প্রবেশ করেছেন যার ভিডিউ ফুটেজ রয়েছে। কিন্তু এরপর তিনি আর বের হয়েছেন বলে কোন ভিডিউ ফুটেজ নেই। বিশ্ব কূটনৈতিক মহলের প্রবল ধারণা খাশোগী কন্সুলেটের ভিতরেই নিহত হয়েছেন।

বিন সালমান হয়ত ভেবেছেন, এটা তার দেশের ভিতরের ব্যাপার, যখন যাকে ইচ্ছা ...; জিজ্ঞাসা করারও কেউ নেই।

কিন্তু না, সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠলো। বিন সালমান জানালেন -এবং এখানেই হলো আনাড়িপনা- খাশোগী কাজ শেষে কন্সুলেট থেকে বের হয়ে গিয়েছেন। তুর্কী পক্ষ বললো, তাহলে ভিডিউ ফুটেজ দেখাও। বিন সালমান বাচ্চা ছেলের মত বললেন, সিসি ক্যামেরা বিকল ছিলো! ঘটনা আরো এগিয়ে চলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্ত নড়ে চড়ে বসেছেন। ফোনে দু’বার কথা বলেছেন সউদী রাজার সঙ্গে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন সরাসরি কথা বলার জন্য। ধীরে ধীরে ট্রাম্প কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন, তবে তিনি পাকা সউদাগর! অস্ত্রবিক্রি স্থগিত করতে রাজী নন, কারণ তার ভাষায়, ‘এটা হবে নিজেকে শাস্তি দেয়া এবং এত বড় ক্রেতাকে চীন-রাশিয়ার হাতে তুলে দেয়া।’ হাঁ, এটাকেই বলে ‘বণিকবুদ্ধি’! তিনি বলেছেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে সউদী রাজাকে আমি শাস্তি দেবো, তবে সেটা অন্য পথে। আকলমন্দের জন্য এটুকু ইশারাই কাফি।

তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির গতি প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে, বিন সালমান তার বাবাকে নিয়ে ডুবতে বসেছেন। আগামীতে আমেরিকার অবস্থান কী হবে তা বোঝা গেলেও আমরা কিছু বলার  চেয়ে কিছু দেখতে বেশী আগ্রহী।

মানবাধিকারের মোড়লদের প্রতি আমাদের শুধু একটা প্রশ্ন, এ ঘটনা যদি ঘটতো ইরান বা তুরস্কের দূতাবাসে!! *

পুনশ্চ ঃ আমাদের গতিবিধি হলো মাসিক, তাই ঘটনাপ্রবাহ থেকে সাধারণত পিছিয়েই থাকতে হয়। ইতিমধ্যে সউদী আরব, ‘তবে কেন লোক হাসালি’ এর পর্যায় অতিক্রম করেছে। তাই দাবী উঠেছে তাহলে মৃতদেহটা, যতটুকু আছে, বের করে দাও; অন্তত দাফনের ইসলামী মর্যাদাটুকু যেন রক্ষিত হয়!

যুবরাজ সালামাত, আপাতত আশ্বস্ত থাকতে পারেন, চড়ামূল্যের বিনিময়ে হলেও ট্রাম্প এ যাত্রা পাশেই থাকবেন বলে মনে হয়! তবে সাবধান, আবার ঘুঘু, খেতে যেয়ো না ধান!!!

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা