মুহররম.১৪৪০হিঃ (৩/৬)

কাশগর/কায়রো

বুকের রক্ত দিয়ে রক্ষা করবো কাশ্মীরের সাংবিধানিক স্বতন্ত্র মর্যাদা

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

ভারত অধিকৃত কাশ্মীর আবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সংবিধানে কাশ্মীরকে আলাদা মর্যাদা দেয়া হয়েছে, যার আলোকে কোন অকাশ্মীরী সেখানে ভূমি ক্রয় করতে পারে না। একইভাবে কোন অকাশ্মীরী সেখানে সরকারী চাকুরিতে নিয়োগ পেতে পারে না।অনুচ্ছেদ-৩৫এ নামে পরিচিত কাশ্মীরের এই বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের দাবীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি করেছে ভারতের উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন উই দ্য সিটিজেন। সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি আমলে নিয়ে তার উপর শুনানি শুরু করেছিলো। এরই প্রতিবাদে সমগ্র কাশ্মীরে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে কাশ্মীরে সাধারণ জীবনযাত্রা শাব্দিক অর্থেই অচল হয়ে আছে। এমনকি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য সাময়িকভাবে অমরনাথ যাত্রা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। প্রায় তিন লাখ তীর্থযাত্রী কাশ্মীর উপত্যকার বালতাল ও ফাহালগামক ক্যাম্পে অবস্থান করছেন।সুপ্রিম কোর্টে যারা আবেদন পেশ করেছে তাদের যুক্তি হলো, এটি চরম বৈষম্যমূলক আইন, যা পার্লামেন্টে অনুমোদিত নয়, বরং প্রেসিডেন্টের আদেশে জারিকৃত। তারা অবশ্য এ প্রসঙ্গে কথা বলতে রাজি নয় যে, কী উদ্দেশ্যে সংবিধানে কাশ্মীরকে এই আলাদা মর্যাদা দিতে হয়েছিলো?স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরীদের প্রবল আশঙ্কা, এ আইন উঠে গেলে ভারতের উগ্র জাতীয়তা-বাদীরা কাশ্মীরের জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করে ফেলবে। ফলে নিজ দেশে কাশ্মীরীরা হয়ে যাবে সংখ্যালঘু।এ আইনটি প্রণয়ন করেছিলেন কাশ্মীরের শেষ রাজা মহারাজা হরি সিং যা ১৯২৭ সালে কার্যকর হয়। স্বাধীনতার পর তা ভারতের সংবিধানে যুক্ত করা হয় এবং ১৯৫৪ সালে তা গৃহীত হয়।সুপ্রিম কোর্টে পেশকৃত আবেদনের বিরুদ্ধে জুম্মু ও কাশ্মীর সরকার পাল্টা হলফনামা দিয়ে ঐ আবেদন খারিজ করার আবেদন জানায়। রাজ্যসরকারের বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার ঐ ধারার পক্ষে কোন সাফাই দেয়নি, বরং এটর্নি জেনারেল বেনুগোপাল বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হওয়ার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।রাজ্যসরকারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মেহবুবা মন্তব্য করেছেন, এ আইন বাতিল করা না হলে সমগ্র উপত্যকায় ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তলনের জন্য কোন মানুষ আর পাওয়া যাবে না।জুম্মু ও কাশ্মীরের (বিজেপি) মুখপাত্র বীরেন্দ্র গুপ্ত এ মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘মুফতির মন্তব্যে আমরা হতবাক! ভারতীয় সংবিধানে ৩৭০ ধারা সাময়িকভাবে যুক্ত করা হয়েছিলো। সংবিধানের ৩৫এ ও ৩৭০ ধারা এমন নয় যে, তাতে আর হাত দেয়া যাবে না।...’অবস্থা দেখে মনে হয়, বিজেপি সরকার এবং হিন্দু উগ্র জাতীয়তা-বাদীরা আদাজল খেয়ে লেগেছে কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু কাশ্মীরী নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, আইনটি জুম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন। সুতরাং এর জন্য আমরা বুকের রক্ত ঢেলে দিতে প্রস্তুত। কাশ্মীরের মানচিত্র লাল হয়েছে, আরো লাল হবে। কিন্তু কাশ্মীরের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না।  খুনের হরফে লেখা শেষ কথা, ‘কাশ্মীর কাশ্মীরীদের’।


শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা