জিলহজ্ব ১৪৪০ হিঃ (৩/৮)

টেকনাফ/তেতুলিয়া

সেন্টমার্টিনের ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে?!

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

ভাবনার মধ্যে ছিলো অন্যবিষয়। মিয়ানমার, বা রোহিঙ্গাপ্রসঙ্গ ভাবনা থেকে প্রায় বাদই পড়েছিলো। কারণ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা ঝগড়ায় যাবো না।’ এমনিতেও দেশের ভিতরে এবং দেশের বাইরে কোন বিষয়েই তিনি ‘ঝগড়া’র পক্ষে নন। শান্তি ও অহিংসতাই হলো তার অনুসৃত নীতি। দেশের সব মানুষ হয়ত কথাটা পুরোপুরি মানে না, কিন্তু বিদেশী বন্ধুরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অহিংসা ও শান্তির নীতিকে সাধুবাদ জানিয়েই চলেছেন। খুব বেশী দিন হয়নি, মাদার অব হিউমিনিটি খেতাব তিনি অর্জন করেছেন। তদুপরি অতিসম্প্রতি নাইজেরিয়ার জাতীয় দৈনিকের জরিপে উঠে এসেছে সবচে’ সংযমী পাঁচজন বিশ^নেতার তালিকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম!

এই যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মিলে তিস্তার পানি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করছেন, তাতেও প্রধানমন্ত্রী সংযমের নীতি থেকে বিচ্যুত হননি, ‘কুছ তো মিলা’ এই নীতির উপর অটল থেকে ঝগড়ার বদলে সমঝোতার চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের ক্ষেত্রেও শুরু থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঝগড়ার পথ এড়িয়েই চলেছেন এবং চাল কিনেছেন। কিন্তু অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ‘আমি কম্বল ছেড়ে দিলেও কম্বল আমাকে ছাড়তে চায় না।’ অর্থাৎ বাংলাদেশ ঝগড়া করতে না চাইলেও মিয়ানমার যেন পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে উঠে পড়ে লেগেছে।

সর্বশেষ গত ১৬ই এপ্রিল মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপি নাফনদী থেকে অস্ত্রের মুখে চার বাংলাদেশী জেলেকে ধরে নিয়ে গিয়েছে, যা রীতিমত উসকানিমূলক আচরণের মধ্যে পড়ে।

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের ভূখ- সেন্ট মার্টিন নিয়ে মিয়ানমারের কুটিল আচরণ তো এখন রীতিমত উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার বাহিনী সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা পর্যন্ত চালিয়েছে। পরিস্থিতিদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের সরকার শেষ পর্যন্ত উপলব্ধি করতে পারছেন, আমরা ঝগড়া বা সঙ্ঘাত না চাইলে অন্যরা যে তা চাইবে না, তার নিশ্চয়তা নেই। সুতরাং প্রতিপক্ষকে বুঝতে দিতে হবে যে, আমাদের ঝগড়া না চাওয়ার অর্থ দুর্বলতা নয়, বরং আঘাত এলে তার জবাব দিতেও আমরা প্রস্তুত।

এটাই আসলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স বলেছিলেন, প্রমাণিত সত্য হলো, শক্তি ছাড়া শান্তি রক্ষা করা যায় না।’

সম্ভবত এই বিলম্বিত বোধোদয় থেকেই সরকার সম্প্রতি সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিজিবি মোতায়েন করেছে। অবশ্য অভিজ্ঞ মহলের মতে বিজিবি মোতায়েনের পরিবর্তে সেনা মোতায়েনই হতো মিয়ানমারের হঠকারী কার্যকলাপের উপযুক্ত জবাব।

মিয়ানমার বারবার সেন্টমার্টিনের উপর কেন তার মালিকানা দাবী করছে, এটা আসলেই গভীর চিন্তার বিষয়। এজন্য আমাদের, মাত্র বারো বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপটির সামরিক কৌশলগত গুরুত্ব বুঝতে হবে। আসলে যে কারণে চীন ও ভারত মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে রোহিঙ্গানিধন যজ্ঞে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে সেই একই কারণে সেন্টমার্টিনের উপর মিয়ানমারের দাবীকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে চীন ও ভারত, যদিও বিষয়টা এখনো পর্দার আড়াল থেকে হচ্ছে, কিন্তু আমাদের প্রবল আশঙ্কা, বাংলাদেশের পক্ষ হতে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব না হলে হয়ত পর্দার আড়ালের শক্তি স্বরূপে সামনে চলে আসবে। হয়ত তখন মিয়ানমার সরাসরি আগ্রাসন চালাতে কোন দ্বিধা করবে না। আল্লাহ্ না করুন, তখন হয়ত সেন্টমার্টিন আমাদের হাতছাড়াই হয়ে যাবে, কিছুই করার থাকবে না।

এ মুহূর্তে সবচে’ বড় প্রয়োজন যা তা হলো জাতীয় স্বার্থে দলমতনির্বিশিষে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং জাতির ঐক্যবদ্ধ অবস্থান থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এটাই এ মুহূর্তের গণদাবী। *

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা