মুহাররম ১৪৪৫ হিঃ

টেকনাফ/তেতুলিয়া

সেন্টমার্টিনের ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে?!

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের মানচিত্রের অংশ, এটা কি আমাদের ভৌগোলিক সৌভাগ্য, না সামরিক দুর্ভাগ্য, বোধহয় চিন্তা করার সময় এসেছে! সময় তো অনেক আগেই এসেছিলো, এখন বরং সময় বোধহয় পার হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজনীতি ও ক‚টনীতির অঙ্গনে সেন্টমার্টিন অন্তত্য জোরালোভাবে আলোচনার মধ্যে রয়েছে। আলোচনাটা শুরু করেছে কিন্তু সরকার- পক্ষই প্রথমে! একপর্যায়ে স্বয়ং প্রধান-মন্ত্রী সংবাদসম্মেলনে বললেন, কারা নাকি গ্যাসবিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো, তিনি সেই মুচলেকা দেননি বলে ক্ষমতায় আসতে পারেননি। কত ভালো মানুষ আমাদের প্রধানমন্ত্রী! দলের স্বার্থ বলুন, ক্ষমতার স্বার্থ বলুন, দেশের স্বার্থের সামনে সবকিছু তার কাছে তুচ্ছ! এ কারণেই এখন দেশের এত উন্নতি এবং ভারত এত দীর্ঘ যুগ ধরে...!গ্যাস তো একটা ‘হাওয়া’, কিন্তু এবার দেশের গ্যাস নিয়ে নয়, প্রধানমন্ত্রী এবার আরো বড় বোমা ফাটিয়েছেন দেশের মাটি নিয়ে! সেন্টমার্টিন সম্পর্কে!

তিনি বলেছেন, তারা কি সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়! আমি যদি বলি, সেন্টমার্টিন দ্বীপ লিজ দেবো, তাহলে আমিও ক্ষমতায় থাকতে পারি। কিন্তু আমি তা করবো না,  কারণ আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা!আমরা জানি, তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা! কিন্তু বিজ্ঞজন বলেন, দেশপ্রেমের মাপকাঠি  বোধহয় এটা নয়। যাক সে কথা!

ওদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মেথিউ মিলার বলেছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইজারা নেয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কোন প্রকার আলোচনা করেনি!জানি না, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সত্য বলছে, নাকি ‘ঠাকুর ঘরে কে রে! আমি কলা খাই না!’তবে আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী! আমি তার কথাই বিশ্বাস করতে চাই!

বাস্তবতা অবশ্য এই যে, এদেশে ক্ষমতায় আসতে হলে, বিদেশী শক্তির কথা মান্য করা ছাড়া উপায় নেই!  যারা বিদেশী প্রভুর কথা মানবে তারাই ক্ষমতায় আসতে ও থাকতে পারবে!আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বঙ্গবন্ধুর কন্যা, তিনি কোন বিদেশী শক্তির সাহায্যে ক্ষমতায় আসেননি এবং কোন বিদেশীর সাহায্যে ক্ষমতায় থাকবেন না। প্রয়োজন হলে ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন, কিন্তু দেশের স্বার্থ বিক্রি করবেন না! ধন্য আপনি হে প্রধানমন্ত্রী!

***

সেন্টমাটিন দ্বীপের ভৌগোলিক ও সামরিক গুরুত্ব বুঝতে এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, ভারতের তো বটেই, এমনকি চীনেরও কড়া নযর রয়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উপর। এই ত্রিমুখী শক্তির মোকাবেলা করে সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষা করা, বলাবাহুল্য, একমাত্র নিরঙ্কুশ জনসমর্থনে বলীয়ান কোন দেশপ্রেমিক সরকারের পক্ষেই সম্ভব!

***

দুঃখের বিষয় সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে আমরা বলতে গেলে কিছুই জানি না, সুতরাং এখানে সংক্ষেপে এ বিষয়ে কিছু বলার চেষ্টা করছি।এটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। বাংলাদেশ সরকার একে পরিবেশগতভাবে সঙ্কটাপন্ন এলাকা বলে ঘোষণা করেছে বেশ আগে। এটি গ্রীষ্মাঞ্চলীয় মৌসুমি আবহাওয়াবেষ্টিত দ্বীপ। আয়তন মাত্র ৮ বর্গকিলোমিটার। ভাটার সময় আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার।

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা